অবশেষে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুক্ত হলেন দেশের মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন অঞ্চল চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের বাসিন্দারা। ট্রলার ও স্পিডবোটের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রার অবসান ঘটিয়ে সোমবার থেকে চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ ফেরি সার্ভিস চালু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দ্বীপবাসীর জীবনযাত্রায় নতুন দিগন্তের সূচনা হলো।
সোমবার (২৫ মার্চ) সকালে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম ফেরি ছেড়ে যায় সন্দ্বীপের গুপ্তছড়ার উদ্দেশে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে চালু হওয়া এ সেবার উদ্বোধন করেন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন।
দীর্ঘদিন ধরে সন্দ্বীপের মানুষকে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজের জন্য দুর্ভোগ পোহাতে হতো। বৈরী আবহাওয়ায় দ্বীপটি প্রায়ই মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত, যার ফলে অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার জন্য নেওয়াটা হয়ে উঠত দুঃসাধ্য। এখন ফেরি সার্ভিস চালুর মাধ্যমে সেই কষ্টের দিন শেষ হলো।
বিআইডব্লিউটিএ চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক মো. কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রতিটি ফেরিতে একসঙ্গে ৩৫টি যানবাহন এবং ৬০০ যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে। প্রতিদিন চারবার জোয়ার-ভাটার সময় অনুযায়ী চলাচল করবে ফেরি। চট্টগ্রাম থেকে সন্দ্বীপ যেতে সময় লাগবে মাত্র এক ঘণ্টা ১০ মিনিট।
এই সার্ভিস চালুর পাশাপাশি ঢাকা-সন্দ্বীপ রুটে বিআরটিসির বাস সার্ভিসও চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট-সি বিচ-নিমতলা-বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট-সন্দ্বীপ এনাম নাহার মোড় রুটে এসি বাস পরিষেবা শুরু হয়েছে। ফলে সন্দ্বীপের মানুষ সহজেই রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারবে।
ফেরিতে যাতায়াতের জন্য নির্ধারিত ভাড়া হলো- সাধারণ যাত্রী ১০০ টাকা, মোটরসাইকেল ২০০ টাকা, সিএনজি অটোরিকশা ৫০০ টাকা, ব্যক্তিগত গাড়ি ৯০০ টাকা, বাস ৩,৩০০ টাকা, ট্রাক ৩,৩৫০ টাকা, ১০ চাকার গাড়ি ৭,১০০ টাকা।
সন্দ্বীপবাসী সিনিয়র সাংবাদিক সালেহ নোমান বলেন, “এই ফেরি সার্ভিস সন্দ্বীপের যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে। এটি শুধু দ্বীপের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সংযোগই দৃঢ় করবে না, বরং অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিক্ষার প্রসার ও চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
Welcome To B News Just another WordPress site
