মাদক, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং, ইভটিজিং ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান
ঢাকা, ২০ মে ২০২৬ঃ রাজধানীর পশ্চিম নাখালপাড়ায় বিট পুলিশিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মাদক, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং, ইভটিজিং, সাইবার অপরাধ, বাল্যবিবাহ ও যৌতুকবিরোধী সচেতনতামূলক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকেলে পশ্চিম নাখালপাড়া বায়তুল আতিক জামে মসজিদের সামনে আয়োজিত এ সভায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট সোলায়মান মুন্সি । অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তেজগাঁও থানা বিএনপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মিরাজ উদ্দিন হায়দার আরজু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আতাহার উদ্দিন এবং তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ক্যশৈনু।
এছাড়াও বক্তব্য দেন তেজগাঁও থানা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান কবির, বায়তুল আতিক জামে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. সানাউল্লাহ, সমাজসেবক মো. রফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা।
প্রধান অতিথি বলেন, সমাজ থেকে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়; এ ক্ষেত্রে জনগণকে সম্পৃক্ত করে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
সভায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আতাহার উদ্দিন বলেন, “বিট পুলিশিং হলো জনগণের দোরগোড়ায় পুলিশি সেবা পৌঁছে দেওয়ার একটি কার্যকর উদ্যোগ। জনগণের সহযোগিতা ছাড়া অপরাধ দমন সম্ভব নয়। সমাজের প্রতিটি নাগরিককে সচেতন হতে হবে এবং অপরাধের তথ্য দ্রুত পুলিশকে জানাতে হবে।”
তেজগাঁও থানার ওসি ক্যশৈনু বলেন, কিশোর গ্যাং, ইভটিজিং ও সাইবার অপরাধ বর্তমানে উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার ও অভিভাবকদের সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ ও যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধি রোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
ইঞ্জিনিয়ার মিরাজ উদ্দিন হায়দার আরজু বলেন, “একটি নিরাপদ ও মানবিক সমাজ গড়তে রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে সমাজ থেকে অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে।”
স্বাগত বক্তব্যে মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেন, সমাজে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তরুণ সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন। তিনি বিট পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও জনসম্পৃক্ত ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উঠান বৈঠকে স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন সমস্যা ও উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন এবং এলাকায় মাদক ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে পুলিশের টহল বৃদ্ধি, সিসিটিভি স্থাপন এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর দাবি জানান।
অনুষ্ঠান শেষে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
Welcome To B News Just another WordPress site
