Sunday , 28 June 2026
সংবাদ শিরোনাম
You are here: Home » সারাদেশ » ঢাকার বহু এলাকায় বাসাবাড়িতে গ্যাস শূন্য হওয়ার আশঙ্কা
ঢাকার বহু এলাকায় বাসাবাড়িতে গ্যাস শূন্য হওয়ার আশঙ্কা

ঢাকার বহু এলাকায় বাসাবাড়িতে গ্যাস শূন্য হওয়ার আশঙ্কা

রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় বাসাবাড়ির গ্যাস সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে জানিয়েছে, আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। এমনকি ঢাকার অনেক এলাকায় বাসাবাড়িতে পাইপলাইনের গ্যাস পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

বর্তমানে তিতাস গ্যাসের আওতায় আবাসিক গ্রাহক রয়েছে ২৮ লাখের বেশি। গুলশানের মতো কিছু এলাকায় তুলনামূলকভাবে গ্যাস পাওয়া গেলেও রাজধানীর অধিকাংশ এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় গ্যাস থাকে না। এমনকি সংসদ সদস্যদের আবাসিক ভবন ন্যাম ভবনেও গ্যাস সংকটের কারণে সংসদ সচিবালয় থেকে তিতাস গ্যাসকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

রাত জেগে রান্না করছেন নগরবাসী

গ্যাস সংকটের কারণে রাজধানীর বহু পরিবারকে রাত জেগে রান্না করতে হচ্ছে। মোহাম্মদপুরের এক গৃহিণী জানান, দিনের বেলায় চুলায় গ্যাস না থাকায় রাতে গ্যাস এলে তখনই পরিবারের রান্নার কাজ শেষ করতে হয়। একইভাবে অনেক বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, মাসের পর মাস পর্যাপ্ত গ্যাস না পেলেও নিয়মিত বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে।

সরবরাহের চেয়ে চাহিদা বেশি

তিতাস গ্যাসের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বাসাবাড়ি, সিএনজি স্টেশন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও কিছু শিল্পকারখানার জন্য প্রতিদিন প্রায় ১৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ১৬ কোটি ৮০ লাখ ঘনফুট।

আগে আমিনবাজার, টঙ্গী, ডেমরা ও কদমতলী হয়ে যে পরিমাণ গ্যাস ঢাকায় আসত, এখন সেখানে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কম গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে।

শিল্প এলাকাতেও তীব্র সংকট

গ্যাস সংকটের কারণে গাজীপুরের কোনাবাড়ী, চন্দ্রা, সাভার, আশুলিয়া, মানিকগঞ্জ ও রূপগঞ্জসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান আংশিক সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে।

দেশীয় উৎপাদন কমে যাওয়াই প্রধান কারণ

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক গড়ে ১৮০ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হলেও চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত তা কমে ১৬০ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুটে নেমে এসেছে।

এছাড়া সারাদেশে গ্যাস সরবরাহও ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত মোট সরবরাহ নেমে এসেছে ২৫৬ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুটে, যা আগের কয়েক বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

১৫ হাজার কোটি টাকার দুই প্রকল্প বাতিল

ভবিষ্যতে পাইপলাইনের গ্যাসের ব্যবহার কমে যাওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় সরকার প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার দুটি প্রকল্প বাতিল করেছে। এর মধ্যে ছিল- ১৭ লাখ ৫০ হাজার প্রি-পেইড গ্যাস মিটার স্থাপনের প্রকল্প, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে প্রায় ২ হাজার ৭০০ কিলোমিটার নতুন গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্প।

তিতাসের কর্মকর্তাদের মতে, আবাসিক খাতে পাইপলাইনের গ্যাস ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার পরিকল্পনার কারণেই এসব প্রকল্প স্থগিত করা হয়েছে।

এলপিজিতে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা

পাইপলাইনের গ্যাসের বিকল্প হিসেবে সরকার এলপিজি খাতে বড় বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) মোংলা ও এলেঙ্গায় দুটি এলপিজি বটলিং প্ল্যান্ট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে।

About bnews24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top