গতকাল বুধবার রাত ১২টার দিকে উপজেলার বাগাট ইউনিয়নের পূর্ব চরবাগাট গ্রামে শ্বশুরবাড়ি থেকে তাছলিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দুই শিশুকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাছলিমা জানিয়েছেন, গত রোববার রাতে তিনি তাঁর দুই সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। ভোররাত চারটার দিকে তিনি নামাজ পড়তে ওঠেন। এ সময় একটি গায়েবি শব্দ থেকে তাঁকে বলা হয়, ‘তোর দুই সন্তানকে মেরে ফেল, তাহলে ওদের মুক্তি, তোরও মুক্তি।’ তাছলিমা কাকে আগে মারবেন জানতে চান। গায়েবি আওয়াজ বলে, আগে বড়জনকে, পরে ছোটজনকে। এরপর তিনি আল্লাহর উদ্দেশে বলেন, ‘আমাকে হেফাজত করো এবং আমার দুই সন্তানকে হেফাজত করো। এরপর আমি প্রথমে ছেলে তকি মোল্লা (৫) ও পরে মেয়ে তাহেরাকে (৬ মাস) হত্যা করি।’ ওসি রুহুল আমিন বলেন, দুই শিশুকে তিনি কীভাবে হত্যা করেছেন, সে বিষয়ে তিনি এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য দেননি। তাছলিমা বেগম মাগুরার শালিখা উপজেলার কাঠিগ্রামের শেখ মোহাম্মদ হোসেনের মেয়ে। সাত বছর আগে মধুখালী উপজেলার বাগাট ইউনিয়নের পূর্ব চরবাগাট গ্রামের আবদুল্লাহ আল–মামুনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। মামুন স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় বাস করেন। গত ১৩ এপ্রিল মামুন তাঁর ক্যানসার আক্রান্ত মা জেবুন্নাহারকে নিয়ে ভারতের ভেলোরে যান। এ কারণে তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের গ্রামের বাড়িতে রেখে যান। সন্তানদের মৃত্যুর খবর পেয়ে গত মঙ্গলবার দুপুরে তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন। দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তাদের দাদা ইউসুফ আলী মোল্লা গত সোমবার বাদী হয়ে মধুখালী থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেন। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এস এম খবিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, দুটি শিশুরই গলার ওপরের দিকে মাঝামাঝি একই জায়গায় (থাইরয়েড কার্টিলেজ এলাকায়) দুটি দাগ পাওয়া গেছে। এ দাগ দুটি হাতের নখের হতে পারে বা কামড়েরও হতে পারে। তিনি বলেন, গলার যে জায়গায় ওই দাগ দেখা গেছে, তা অত্যন্ত স্পর্শকাতর জায়গা। ভিসেরা পরীক্ষার জন্য শিশু দুটির নমুনা ঢাকার মহাখালীতে পাঠানো হয়েছে। ওই প্রতিবেদন পাওয়ার পর শিশু দুটির মৃত্যু সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ মতামত দেওয়া সম্ভব হবে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মধুখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গিয়াসউদ্দিন বলেন, দুই সন্তান হারানো মায়ের যে অভিব্যক্তি হওয়ার কথা, তা তাছলিমার মধ্যে নেই। ঘটনার সময় ওই ঘরে দুই শিশুর সঙ্গে তাছলিমা ছিলেন। এ কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৩ মে দৈনিক প্রথম আলোর চার পৃষ্ঠায় ‘ভাই-বোনের রহস্যজনক মৃত্যু’ শিরোনামে এ–সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।
Welcome To B News Just another WordPress site
