ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচ মানেই সমর্থকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা। কিন্তু গত কয়েক বছরে মাঠের খেলায় যেন সেই উত্তাপ আর দেখা যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক সময়ে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ফলাফল প্রায় একই। এবারের এশিয়া কাপের আগে দুই দলের মহারণ ঘিরে কম আলোচনা হয়নি। মাঠের খেলায় পাকিস্তানকে আরও একবার হতাশ করল ভারত।
রোববার দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপের হাইভোল্টেজ ম্যাচে পাকিস্তানকে ২৫ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটে হারিয়েছে ভারত। টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১২৭ রান তোলে পাকিস্তান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৬.৫ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে সেই লক্ষ্য সহজেই টপকে যায় ভারত। সেই সঙ্গে টানা দুই জয়ে প্রথম দল হিসেবে সুপার ফোরে এক পা দিয়ে রাখল সূর্যকুমার যাদবের দল।
১২৮ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দারুণ শুরুর আভাস দিয়েছিল ভারত। তবে বেশিদূর এগোতে পারেননি শুভমান গিল। সাইম আইয়ুবের টানা দুই বলে চার মারার পর স্টাম্পড হয়ে সাজঘরে ফিরতে হয় তাকে। ফেরার আগে ৭ বলে ১০ রান করেন এই ওপেনার। গিলের বিদায়ের পর ঝড় তোলেন আরেক ওপেনার অভিষেক শর্মা। আফ্রিদির প্রথম ওভারে একটি করে চার–ছক্কার পর তার দ্বিতীয় ওভারেই একটি করে চার–ছক্কা মেরেছেন এই বাঁহাতি ওপেনার।
তবে ইনিংসের চতুর্থ ওভারে অভিষেক শর্মাকে ফেরান সাইম আইয়ুব। বড় শট খেলতে গিয়ে ফাহিম আশরাফের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বাঁহাতি এই ওপেনার। ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ১৩ বলে ৩১ রান। এরপর দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নিতে থাকেন সূর্যকুমার যাদব ও তিলক ভার্মা। কিন্তু দলীয় ৯৭ রানের মাথায় সাইম আইয়ুবের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিলক। বিদায়ের আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৩১ বলে ৩১ রান।
এরপর দলের বাকি কাজটা শেষ করেন অধিনায়ক সূযকুমার যাদব ও তিলক ভার্মা। ১৫.৫ ওভারেই ম্যাচ জিতে নেয় ভারত। ৩৭ বলে ৪৭ রানে অপরাজিত থাকেন সূর্য। অন্যদিকে, পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে একমাত্র সফল ছিলেন ব্যাট হাতে ব্যর্থ সাইম আইয়ুব। একাই তিনটি উইকেট শিকার করেন তিনি।
এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম বৈধ বলেই উইকেট হারায় পাকিস্তান। হার্দিক পান্ডিয়ার করা অফ স্টাম্পের বাইরের বলে বৃত্তের ভেতরে দাঁড়ানো ফিল্ডারের মাথার ওপর দিয়ে খেলতে গিয়ে বুমরাহর হাতে ধরা পড়েন সাইম আইয়ুব। তিনে নেমে দলের বিপদ আরও বাড়ান মোহাম্মদ হারিস। দ্বিতীয় ওভারে বুমরাহর বলে হার্দিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৫ বলে ৩ রান করেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার।
৬ রানে ২ উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরেছিলেন শাহিবজাদা ফারহান ও ফখর জামান। তৃতীয় উইকেট জুটিতে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করছিলেন তারা। কিন্তু উইকেটে থিতু হয়েও বাজে শট খেলে উইকেট দেন ফখর। এই অভিজ্ঞ ব্যাটার ১৫ বলে করেছেন ১৩ রান। এরপর সালমান আলি আগা, হাসান নাওয়াজ, মোহাম্মদ নাওয়াজরা যোগ দেন আসা-যাওয়ার মিছিলে। এক প্রান্তে এমন ব্যাটিং ধসের মাঝেও আরেক প্রান্ত আগলে রেখে দারুণ ব্যাটিং করেছেন ফারহান। এই তরুণ ওপেনার ৪৪ বলে করেছেন ৪০ রান।
ফারহান আউট হওয়ার পর অনেকেই ভেবেছিলেন পাকিস্তানের ইনিংস এখানেই শেষ। কিন্তু আফ্রিদি সেটা হতে দেননি। আরও একবার নিজের পাওয়ার হিটিং সামর্থ্যের প্রমাণ দেখিয়েছেন তিনি। ১৬ বলে চার ছক্কায় অপরাজিত ৩৩ রান আসে তার ব্যাট থেকে।
ভারতের হয়ে বোলিংয়ে কুলদীপ যাদব একাই নেন ৩ উইকেট। ২টি করে উইকেট শিকার করেন বুমরাহ ও অক্ষর প্যাটেল। বরুণ ও হার্দিক নিয়েছেন ১টি করে উইকেট।
Welcome To B News Just another WordPress site
