দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন যমজ দুই বোন। তাদের এই সাফল্যে পরিবারসহ এলাকায় আনন্দ বিরাজ করছে।
দুই যমজ বোন বোচাগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর ইশানিয়া ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের বাসিন্দা মশিউর রহমানের মেয়ে মাখনুন আক্তার ও মুসফিকা নাজনিন। মশিউর রহমান পেশায় মুরারিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত।
তিন কন্যাসন্তানের জনক হলেও মশিউর রহমান কখনো মেয়েসন্তান হওয়াকে সীমাবদ্ধতা হিসেবে দেখেননি। বরং শুরু থেকেই মেয়েদের শিক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। মা নাজমুন নাহার সন্তানদের সব সময় পাশে ছিলেন।
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মাখনুন আক্তার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ এবং তার যমজ বোন মুসফিকা নাজনিন ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে।
মাখনুন আক্তার ভর্তি পরীক্ষায় ৮২ দশমিক ৫ নম্বর এবং মুসফিকা নাজনিন রোল নম্বর ৮০ দশমিক ৫ নম্বর অর্জন করেন। তারা দুজনই একই কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেন।মাখনুন আক্তার ও মুসফিকা নাজনিন রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেন। পরে তারা সেতাবগঞ্জ সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং দিনাজপুর সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেন।
সাফল্যের অনুভূতি প্রকাশ করে মাখনুন আক্তার বলেন, প্রথমেই আল্লাহ তাআলার কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। মা-বাবার সহযোগিতা ছাড়া এই সাফল্য সম্ভব হতো না। বড় বোন সবসময় আমাদের পাশে ছিল। ছোটবেলা থেকেই আমার ইচ্ছা ছিল ডাক্তার হওয়ার। ভবিষ্যতে আমি আমাদের গ্রামের মানুষের সেবা করতে চাই।
তার যমজ বোন মুসফিকা নাজনিন বলেন, একসঙ্গে দুজন মেডিক্যালে ভর্তির সুযোগ পাওয়া আমাদের জন্য অনেক আনন্দের। আমরা যেন ভালো ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করতে পারি—এই দোয়া চাই।
তাদের বড় বোন মাইমুনা আক্তার মিম বলেন, আমার ছোট দুই বোন মেডিক্যালে চান্স পেয়েছে—এটা আমাদের পরিবারের জন্য অনেক বড় আনন্দের বিষয়। আল্লাহ যেন তাদের দিয়ে দেশ ও সমাজের কল্যাণমূলক কাজ করান।
মা নাজমুন নাহার বলেন, আমার দুই মেয়ে মেডিক্যালে চান্স পেয়েছে এতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।
বাবা মশিউর রহমান বলেন, আমার তিনটি মেয়ে কোনো ছেলে নেই। কিন্তু আমি কখনো আক্ষেপ করিনি। আমি বিশ্বাস করি, সন্তান ছেলে হোক বা মেয়ে—শিক্ষাই আসল পরিচয়। আল্লাহ তাআলা আমার ইচ্ছা পূরণ করেছেন। তারা যেন ভালো ডাক্তার হয়ে দেশ ও মানুষের সেবা করতে পারে এই দোয়া চাই।
রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রোখসানা বেগম বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই তারা অত্যন্ত নিয়মিত ও মনোযোগী ছিল। কখনো ক্লাস ফাঁকি দিত না। তখনই বুঝেছিলাম—ওরা একদিন বড় কিছু করবে।