অবশেষে দেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো পদ্মা বহুমুখী সেতুর নদীশাসন কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার সকালে শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মা সেতুর নদী শাসনের উদ্বোধন করেন তিনি।
সকাল পৌনে ১০টার দিকে হেলিকপ্টারে করে প্রধানমন্ত্রী জাজিয়ায় পৌঁছানোর কথা থাকলেও কুয়াশার কারণে তা বিলম্বিত হয়। এক ঘণ্টা পর নাওডোবা মৌজায় হেলিপ্যাডে নামার পর কয়েকশ গজ দূরেই ফলক উন্মোচন করে নদীশাসন কাজের উদ্বোধন করেন তিনি।নদী শাসন কাজের উদ্বোধনের পর জাজিরায় একটি সুধি সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর নৌপথে যাবেন মাওয়ায়। মাওয়া ঘাট থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে পদ্মা নদীর উপরে ৭ নম্বর পিলারে মূল পাইলিং শুরু হবে। এটিই হবে সেতুর প্রথম মূল পাইল ড্রাইভিং। পদ্মা সেতুর মূল কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী দোগাছি সার্ভিস এরিয়া-১ এ নামাজ আদায় ও মধাহ্ন ভোজ করবেন।এরপর দুপুর আড়াইটায় মাওয়া চৌরাস্তা গোল চত্বর সংলগ্ন মেদেনীমন্ডল খান বাড়ি এলাকায় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দিবেন। এর পর বিকাল সোয়া ৪টায় প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টার যোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন।পদ্মা বহুমূখী প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, পদ্মা সেতুর পাইলগুলোর ১২০ মিটার বা ৪০ তলা ভবনের সমান কাঠামো পানির নিচে থাকবে। সব মিলিয়ে সেতুটির একেকটি পাইলের দৈর্ঘ্য হবে ১৫০ মিটার। পদ্মা নদীর গর্ভে মাটিতে কাঁদার পরিমাণ বেশি। তাই এর চাপ ধারণ ক্ষমতা কম। পাইলগুলো এত গভীরে যাওয়ার এটা একটা বড় কারণ।পাইলগুলো আকারে হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় যা রের্কড সৃষ্টি করবে। এর আগে নদীর ওপর সারি সারি ৩.৪ টি প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ করা হয়েছে।এছাড়া নদী তীর থেকে ১০০০ টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন বিশাল ক্রেনের মাধ্যমে মালপত্র উঠানামার কাজ চলছে। এতে করে পিলারের চতুর্দিককে ঘিরে নানা কর্মযজ্ঞ চলছে।মূল সেতুর কাজের প্রস্তুতির সঙ্গে সঙ্গে পদ্মা নদীর দুই পাড়ে সেতুর সংযোগ স্থাপনের জন্য রাস্তা নির্মাণ, মাঝনদীতে মাটি পরীক্ষার কাজ চলছে পুরোদমে। প্রকল্প এলাকার দুইপারে দেশী বিদেশী এবং সবমিলিয়ে সামরিক বেসামরিক প্রায় সাড়ে ৮ হাজার শ্রমিক এখন কাজ করছেন এখানে।জার্মান থেকে মূল পাইলের হ্যামার মাওয়ায় পৌঁছার পর এই প্রস্তুতি জোড়ালোভাবে বেড়ে গেছে।সিডিউল অনুযায়ী চার বছরের পরিকল্পনা অনুযায়ী চলছে এই কাজ। ইতোমধ্যে সেতুর কাজের অগ্রগতি হয়েছে ১৬.৪৬ শতাংশ। সব মিলিয়ে মূল সেতুর কাজ হয়েছে ২৭ শতাংশ জানান সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।এদিকে এ সেতুকে কেন্দ্র করে লৌহজং সর্বত্র বইছে আনন্দ। স্থানীয় নেতা কর্মীদের মধ্যে প্রাণ চাঞ্চল্যে সৃস্টি হয়েছে। জনসভায় লৌহজং, শ্রীনগর, সিরাজদিখান, টঙ্গীবাড়িসহ মুন্সীগঞ্জ জেলার সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতি থাকবে এ আশা প্রকাশ করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা।
Welcome To B News Just another WordPress site
