ঢাকা, ৮ মে ২০২৬ঃ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক সহিংসতা, সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর হামলা, ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ এবং ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি।
শুক্রবার (৮ মে ২০২৬) সংগঠনের চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, মহাসচিব এডভোকেট সাইফুল ইসলাম সেকুল এবং সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন আল আমিন এক যৌথ বিবৃতিতে এ নিন্দা জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে একটি উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী মুসলমানদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালাচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি, দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কাঁচাবাজারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা গভীর উদ্বেগজনক। এমনকি সাধারণ মানুষের জীবিকা নির্বাহের স্থানও রক্ষা পায়নি।
তারা অভিযোগ করে বলেন, মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের কথা বলা আন্তর্জাতিক মহল এ ঘটনায় নীরব ভূমিকা পালন করছে। সংখ্যালঘু মুসলমানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। তারা প্রশ্ন রেখে বলেন, “মানবাধিকার নিয়ে যারা প্রতিনিয়ত সোচ্চার, তারা কি পশ্চিমবঙ্গের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখছেন না? জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নজরে কি এসব নির্যাতনের ঘটনা পড়ছে না?”
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দায়িত্ব হচ্ছে সকল নাগরিকের জানমাল ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবে মুসলমানদের ওপর ধারাবাহিক হামলা, ভয়ভীতি ও নির্যাতনের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বিবৃতিতে তারা অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ, দোষীদের আইনের আওতায় আনা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ক্ষয়ক্ষতির যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানান। পাশাপাশি জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, ওআইসি এবং বিশ্ব বিবেকের প্রতি জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির নেতৃবৃন্দ বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নৈতিক দায়িত্ব। সাম্প্রদায়িক সহিংসতা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তারা শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবাধিকারের স্বার্থে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান।
Welcome To B News Just another WordPress site
