রেজাউল করিম নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নওগাঁ-০৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য,আত্রাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধার অন্যতম সংগঠক, কিংবদন্তি মুক্তিযোদ্ধা এবং ‘ওহিদুর বাহিনীর’ অধিনায়ক ওহিদুর রহমান আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন। শনিবার (২৬ জুলাই) সকাল ১০টার সময় তিনি ঢাকার আগারগাঁওয়ের জাতীয় নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল (৮৬) বছর।
সাবেক এই সংসদ সদস্য দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন বলে জানান। মরহুম
ওহিদুর রহমানের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় শনিবার ২৬ শে জুলাই এশার নামাজের পর নওগাঁর নওজোয়ান মাঠে, এবং দ্বিতীয় জানাজা রবিবার ২৭ শে জুলাই সকাল ১০টার সময় নিজ গ্রামের বাড়ি আত্রাইয়ের রসুলপুরে। রাষ্ট্রীয় মর্যাদার পর জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এক কিংবদন্তির জীবনকথা, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে নিজ নামে একটি বাহিনী গঠন করেছিলেন তিনি— ‘ওহিদুর বাহিনী’ নামে পরিচিত সেই গেরিলা বাহিনীতে ছিল দুই হাজারেরও বেশি মুক্তিযোদ্ধা।
রাজশাহী, নওগাঁ ও নাটোর জেলাজুড়ে নয়টি থানায় পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তারা। জল ও স্থলপথে চলাচলকারী এই বাহিনীর নৌকার বহর স্থানীয়ভাবে পরিচিত ছিল ‘ওহিদুরের বায়ান্ন ডিঙ্গি’ নামে। তাদের সাহসিকতার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দুটি অভিযান ছিল— ৬ সেপ্টেম্বর, আত্রাইয়ের সাহাগোলা ব্রিজ ধ্বংস করে ১০৫ জন পাকিস্তানি সেনা হত্যা, ১৯ সেপ্টেম্বর, তারানগর বাউল্লায় এক নৌকা বহরে হামলা চালিয়ে ১৫০ পাক সেনা হত্যা
রাজনৈতিক জীবন, ছাত্রজীবনে বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ওহিদুর রহমান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের (মেনন গ্রুপ) সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন (১৯৬৭–৬৮)। পরবর্তীতে তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং রাজনীতি ও সমাজসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
তার মৃত্যুতে নওগাঁসহ গোটা উত্তরাঞ্চলে ও বাগমারা উপজেলা,রাজশাহী, নাটোর বাসী। মুক্তিযুদ্ধের এক গর্বিত ইতিহাসের অধ্যায় সমাপ্ত হলো। নেতার সহযোদ্ধা, রাজনৈতিক অনুসারী ও সাধারণ মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা ওহিদুর রহমানের অবদান এ দেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
Welcome To B News Just another WordPress site
